জাপানে ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ

জাপানে চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

জাপানে চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চীন থেকে সস্তা ইস্পাত সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতব পণ্যটির দাম কমে এসেছে। এ কারণে জাপানের কোম্পানিগুলো ইস্পাত উৎপাদন কমিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাপান পুরো বছরের হিসাবে বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে যেতে পারে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জাপানের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৪১ লাখ টন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ টনে পৌঁছেছে। চলতি বছরের বাকি সময়ও এ ধারা অব্যাহত থাকলে ১৯৯৯ সালের পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র জাপানের চেয়ে বেশি ইস্পাত উৎপাদন করবে।

জাপান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর জাপান বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ছিল। এ সময় দেশটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৪০ লাখ টন। এছাড়া চীন ও ভারতের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১০০ কোটি ও ১৪ কোটি ৯০ লাখ টন। যুক্তরাষ্ট্র সে সময় ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করে চতুর্থ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল।

জাপান মোট ইস্পাত উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ রফতানি করে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা চীনা ইস্পাতের কারণে রফতানি কমেছে। চীনের হট-রোলড ইস্পাতের দাম বর্তমানে প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ইউয়ান (৪৯০ ডলার), যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। জাপানের উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন, মুনাফা সীমিত হয়ে পড়ার কারণে রফতানি কমানো ছাড়া উপায় নেই।

চীনের ইস্পাত উৎপাদন ও রফতানি এখনো ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। মার্কিন কারখানাগুলো বর্তমানে মোট সক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহার করছে, বছরের শুরুতে যা ছিল ৭৪ শতাংশ।

জাপানের এক সিনিয়র ইস্পাত কর্মকর্তা বলছেন, বিশ্ববাজারে ইস্পাতের দাম কমেছে। তাই রফতানি কমানো ছাড়া উপায় নেই। নতুন রফতানি শুল্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ আমাদের পণ্যে প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সস্তা ইস্পাত ও শুল্কনীতি জাপানের ইস্পাত শিল্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ সময় মার্কিন উৎপাদন শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

আরও